• Welcome to sajidBeautyBD
  • Call Us: +88 01648-022175
Elevate Your Space: The Art of Stylish Furnishing!

শীতে শুস্ক ত্বককে না বলুন?

এসে গেল শীত। শীত মানেই ত্বক, চুল, হাত-পা আর ঠোঁটের অবস্থা দফারফা। শীতের হিমহিম বাতাস ত্বকের জন্য আরামদায়ক নয়! বরং শীতের শুষ্কতা কেড়ে নেয় ত্বকের আর্দ্রতা।এই ঋতুতে আমাদের ত্বকে নানান সমস্যা দেখা দেয়।

  • 09 Nov 2025 09:11 AM
  • Posted By : Admin

শীতের সময় প্রয়োজন হয় ত্বকের বাড়তি যত্নের। নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করলে আপনার ত্বক থাকবে মসৃণ এবং কোমল। কি করলে ত্বক ভালো থাকবে, সেটা নিয়েই আজকে আপনাদের জানাবো ।

শুষ্ক ত্বকের উপসর্গ-

  • ত্বকে রুক্ষ ও শুষ্ক ভাব দেখা যাবে।
  • ত্বক শুকনো ও মলিন লাগবে।
  • গোসলের পর বা মুখ ধোয়ার পর ত্বক টান টান লাগবে।
  • চুলকানি ভাব থাকতে পারে।
  • ত্বকের রেখাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং বলিরেখাও পড়ে যেতে পারে।
  • লালচে ভাব থাকতে পারে।
  • চামড়া সাদাটে হয়ে উঠে যেতে পারে। অর্থাৎ মৃত কোষ বেড়ে যায়।
  • নিয়মিত যত্নের মাধ্যমেই করে তুলতে পারেন শুষ্ক ত্বককে মসৃণ ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল।

শুস্ক ত্বকের যত্ন-

ক্লিনজার-

সাধারণ ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার ত্বকের আর্দ্রতা শুষে নিয়ে তা শুকনো করে তোলে। তাই এমন ক্লিনজার বেছে নিন যা ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। অনদিকে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডের সমস্যাও কমে যাবে। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করতে হবে। এক্সফোলিয়েটর এমন হবে যা ত্বকের কোমলতা রক্ষার পাশাপাশি মৃত ত্বকের কোষ সরিয়ে ভিতরের তরতাজা ত্বক ফুটিয়ে তোলে। ভালো মানের ইমপোর্টেড ক্লিনজার ব্যবহার করতে চাইলে আমাদের এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। 

ত্বকের ময়েশ্চারাইজার -

শীতে ত্বকের যত্নের শুরুতে একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। শুষ্ক কিংবা তৈলাক্ত, সবধরনের ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা প্রয়োজন। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যতবার ত্বক শুষ্ক মনে হবে ততবার ব্যবহার করুন। শীতকালে ত্বকের আর্দ্রতা বজায়ে মাঝে মাঝে মুখে পানির ঝাপটা দিন। সহজে ত্বক শুষ্ক হবে না।


সানস্ক্রিন ব্যবহার-

শীত আসছে বলে ভাববেন না যে, সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজনীতা কমে গেছে। শীতকালে স্কিনকে প্রোটেক্টেড রাখতে বাইরে বের হওয়ার ৩০ মিনিট আগে (এস পি এফ৫০+) সম্পন্ন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। বেশি ময়েশ্চারাইজারযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, প্রয়োজনে পানি মিশিয়ে ব্যবহার করুন।

গোসলের সময় ও পরে-

শীতকালে গোসলে সাবান কম ব্যবহার করুন। সাবান ব্যবহার করলেও আর্দ্রতাযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন।এতে ত্বকে খসখসে ভাব কমে আসবে। গোসলের সময় আরাম অনুভব হলেও অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে মুখ, মাথা ধোয়া থেকে বিরত থাকবেন। অতিরিক্ত গরম পানি মুখের ত্বকের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে । গোসলের সময় পানিতে কয়েক ফোঁটা জোজোবা বা বাদাম তেল দিয়ে নিলে তা ত্বককে আর্দ্র এবং মসৃণ করতে সহায়তা করে।

আমাদের দেশে শর্ষের তেল শরীরে মাখার ঐতিহ্য বেশ প্রাচীন। এ ছাড়া অলিভ অয়েল, নারকেল তেল বা অন্য অনেক তেলও শরীরে ব্যবহার করা যায়। তবে তেল ব্যবহারের আগে দেখে নিতে হবে সেটি আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত কি না। উপযুক্ত হলে তেল হালকা গরম করে পুরো শরীরে ম্যাসাজ করতে পারেন। গোসলের পর এটি করলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

অথবা গোসলের পর এবং প্রতিবার ভেজা অবস্থায় লোশন ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

ঠোঁটের পরিচর্যা-

ঠান্ডা বাতাসে ঠোঁট ফেটে যায়। কখনও কখনও ফেটে গিয়ে রক্ত বের হয়। এই শীতে ত্বকের পাশাপাশি ঠোঁটও এক্সফোলিয়েট করুন। এক্সফোলিয়েশন ঠোঁটের ডেড সেলস দূর করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে লিপ স্ক্রাব কিনে নিতে পারেন, চাইলে ফেইস স্ক্রাব দিয়েও কাজটি করে নিতে পারেন। এছাড়াও ঘরোয়া ভাবে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগালে ঠোঁট কখনোই ফেটে যাবে না।

হাইড্রেটেড ত্বক-

শীতকালে অনেকেরই পানি পান করার পরিমাণ কমে যায়। এটি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এসময় শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ত্বক খসখসে ও রুক্ষ হয়ে যায়। ত্বক ও শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত।

রাতে ঘুমানোর আগে-

রাতে ঘুমানোর আগে নিয়মিত পরিমাণের চেয়ে একটু বেশি ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হবে। ত্বকের আর্দ্রতা ও ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে রাতে ঘুমানোর আগে অলিভ অয়েল অথবা গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন।এ ছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে যাঁদের বয়স কম, তাঁরা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন। বয়স ত্রিশের কোঠা ছাড়ালে নাইট ক্রিম ব্যবহার করা ভালো।

হাত ও পায়ের যত্ন -

মুখের পাশাপাশি হাত ও পায়ের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। হাত ও পায়ের ভালো করে পরিষ্কার করে পেট্রোলিয়াম জেলি কিংবা গ্লিসারিন দিয়ে ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে একবার হাত ও পায়ের এক্সফোলিয়েট করতে পারেন। হাতের ত্বক খসখসে হয়ে গেলে লেবুর রসে এক চামচ মধু ও চিনি মিশিয়ে ঘষুন যতক্ষণ না পর্যন্ত চিনি গলে যায়। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কনুইয়ের কালো দাগ দূর করতে এটি বেশ কার্যকর।

 পা ফাটা রোধে নিয়মিত পেট্রোলিয়াম জেলি কিংবা গ্লিসারিন ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে অলিভ অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন। পা ফাটার সমস্যা থাকলে সেটা অনেকটাই কমে যাবে।

 চুলের যত্ন-

 শীতকালে মাথার শুষ্ক ত্বক আরও বেশি শুষ্ক হয়ে যায়, খুশকি বেড়ে যায়, চুলের আগা ফেটে যায়। এ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে দেড় টেবিল চামচ মেথি ও দেড় টেবিল চামচ শুকনা আমলকী এক কাপ পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রাখার পর বেটে ফেলুন। এরপর এর সঙ্গে মেশান দুই-তিন চা-চামচ মধু। এই মিশ্রণ চুলের গোড়ায় লাগালে খুশকি যেমন দূর হবে তেমনি চুলে পুষ্টি জোগাতেও সাহায্য করবে। খুশকি একধরনের একজিমা। গোসলের জন্য শরীরে গরম পানি ব্যবহার করা হলেও মাথায় গরম পানি ব্যবহার করা যায় না। ঠান্ডা পানি মাথায় ব্যবহার করুন । চুলের রুক্ষ ভাব দূর করতে নিয়মিত তেল মাখতে হবে। চুলের ক্ষেত্রে হটওয়েল থেরাপি ভালো কাজ করে। শীতের দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি উপকারে আসে হট অয়েলের ম্যাসাজ। নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল, বাদাম তেল বা যে কোনো চুলে লাগানোর তেল হালকা গরম করে নিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করে লাগান। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে চুলের উপযোগী শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল ধুয়ে ফেলবেন।

সুস্থ থাকতে ও ত্বকে সুস্থ্য রাখতে এই শীতে একটু বাড়তি যত্ন নিন নিজের।