• Welcome to sajidBeautyBD
  • Call Us: +88 01648-022175
Elevate Your Space: The Art of Stylish Furnishing!

টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল কি?

আমরা অনেকেই টি ট্রি গাছকে বলতে চা পাতা বলে মনে করে থাকি কিন্তু এই টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল হল, অস্ট্রেলিয়ান বিশেষ টি ট্রি গাছ। এর পাতার নির্যাস থেকে তৈরি হয় এসেন্সিয়াল অয়েল, যা ত্বক ও চুলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে।

  • 09 Nov 2025 09:20 AM
  • Posted By : Admin

ইতিহাস ও উৎপত্তি:

অস্ট্রেলিয়ান টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসী উপজাতিদের কাছে খুঁজে পাওয়া একটি গাছ

এই উদ্ভিদের রহস্যময় ক্ষমতার জন্য, আদিবাসী উপজাতিরা টি ট্রি গাছের পাতা দিয়ে রূপচর্যা, ত্বকের চিকিৎসা এবং ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করতেন।

১৮ শতকের দিকে টি ট্রি গাছের তেল পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

এর পরে থেকে যত গবেষণা করতে থাকে ততোই টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল অলৌকিক কার্যকারিতা দেখে অবাক হয়েছিলেন পশ্চিমা বিশ্বের মানুষ।

এ ছাড়াও ইউরোপ জুড়ে টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল অপরিহার্য ব্যবহার ব্যাপক ভাবে বিস্তার করে । গবেষণা গভীর হওয়ার সাথে সাথে,সারা বিশ্বে টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল অপরিহার্য তেলের ঔষধি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হওয়ায় প্রশংসা বাড়তে থাকে । আজ, এটি ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রসাধনী, অ্যারোমাথেরাপি জন্যে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।

কি কি উপাদান থাকে?

টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল এর একটি প্রধান সক্রিয় উপাদান হল টার্পিনেন-৪-ওল, যা 40% পর্যন্ত পাওয়া যায়। টি ট্রি গাছের তেলে গামা-টেরপিনিন (24%), আলফা-টেরপিনিন (10%) এবং সিনেওল (5%) রয়েছে। এই শতাংশ তেলের মানের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

টার্পিন-৪- ওল, অ্যান্টিসেপটিক এর কাজ করে এবং ত্বককে কোমল করতে সাহায্য করে।

সিনিওল ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের বিরুদ্ধে বিস্ময়কর কাজ করে। সিনিওল তেলের স্বতন্ত্র গন্ধ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ক্ষমতার বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ।

উপকারিতা:

অস্ট্রেলিয়ান টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল অসংখ্য উপকারিতা বা গুন রহয়েছে তার মধ্যে কিছু উপকারিতা তুলে ধরলাম

১. টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল মূলত আমাদের ত্বকের ব্রণের সমস্যা দূর করে

২. স্পট ও আন্টি-এজিং সমস্যা সমাধান করে

৩. ত্বকে হ্যাইডারেশন ও মোসরাইজ করে

৪. ত্বকের যেকোন ধরেন ইর্রিটেশন ও এন্টি ফাংগাল এর সমস্যা সমাধান করে

৫. মাথার স্ক্যাল্প এর সমস্যার সমাধান করে এবং হেয়ার গ্রোথ ইম্প্রোভ করে।

৬. এছাড়া চুল পড়া বন্ধ করে, ড্যানড্রাফ দূর করে এবং চুলকে আরও সায়নিং করে

৭. এছাড়াও এটি ন্যাচারাল আন্টি সেপটিক হিসাবে কাজ করে।

টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েলের কি ভাবে করবেন ব্যবহার ?

 টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা পাওয়ার জন্য, এর তেল কখনই সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করা উচিত নয়। যেমন পানি ,অলিভ অয়েল, কোকোনাট অয়েল বা কাস্ট্রেট অয়েলের সাথে মিক্স করে ব্যবহার করতে পারেন।

ব্রণ এর জন্য:

একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, টি ট্রি অয়েল ব্রণ নিরাময়ে সহায়ক। ব্রণগুলো আপনি এসেনশিয়াল অয়েলের মাধ্যমে নিরাময় করতে পারেন।

১ চা চামচ নারকেল তেল বা পানির সাথে 2-3 ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে, তুলার মাধ্যমে আলতো করে ত্বকে বা ব্রণের আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করুন। ব্যাবহার করার 30 মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন।

এছাড়াও টোনার বানিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। পরিমান মতো পানি নিয়ে তাতে ২-৩ ফোটা টি ট্রি অয়েল মিক্স করুন, মিশ্রণটি একটা স্প্রে বোতলে ভরে টোনার/মিস্ট হিসেবে ব্যবহার করুন।

চুলের জন্য:

টি-ট্রি অয়েলে আছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এটি আপনার স্ক্যাল্পের ভিতরে জমে থাকা টক্সিন দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত টি-ট্রি অয়েল মালিশ করলে স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি হয়। যার ফলে রুক্ষ চুল কিংবা চুলের ডগা ফেটে যাওয়া, ও মাথার স্ক্যাল্প সমস্যা দূর করে ।

নারকেল তেলের সাথে 2-5 ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে, মাথার দিয়ে ম্যাসাজ করুন। এছাড়া, শ্যাম্পুর সাথে ও ব্যবহার করতে পারেন,। ব্যাবহার করার ৩০ মিনিট পর চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

মাউথওয়াশ :

1-2 ফোঁটা টি ট্রি অয়েল পানিতে মিশিয়ে মাউথওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে যাতে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ এবং ডেন্টাল প্লাকের বিরুদ্ধে লড়াই করবে ।

ইনহেলেশন:

ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের কারণে সাইনাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল ২-৪ ফোটা গরম পানির সাথে মিক্স করে গরম ভাব নিতে পারেন।

হ্যান্ড স্যানিটাইজার

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টি ট্রি অয়েল নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ভাইরাস ঘটিত রোগ দূরে রাখতে সক্ষম। এর জন্য আপনি যদি টি ট্রি অয়েলের স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন তাহলে সবচেয়ে ভাল হবে। একটি স্প্রে বোতলে ৫-১০ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল, ৩০ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল এবং ৩ আউন্স ইথাইল অ্যালকোহল নিন। এতে ১ আউন্স অ্যালোভেরা জেল এবং ১/৪ চামচ ভিটামিন ই তেল মিশিয়ে নিন। ব্যস তৈরি আপনার হোমমেড স্যানিটাইজার।

ফাংগাল ইনফেকশন

টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল আমাদের পা ও নখের ইনফেকশন সমস্যা সমাধান করে। শুষ্ক ত্বক, চুলকানি, একজিমা, ক্ষত, সংক্রমণ, উকুন, ঠান্ডা ঘা, পোড়া, পোকামাকড়ের কামড়, অ্যালার্জি, ফুসকুড়ি এবং অন্যান্য চর্মরোগ ইনফেকশন সংক্রান্ত সমস্যা দূর করে। কেটে গেলে, চোট লাগলে আপনি টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। টি ট্রি অয়েলের মধ্যে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেটিভ গুণ রয়েছে।

সরাসরি টি ট্রি অয়েল ক্ষতর উপর প্রয়োগ করবেন না। এক কাপ জলে ৫ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল নিন এবং তুলোর সাহায্য সেটা ক্ষতর উপর প্রয়োগ করুন।


সতর্কতাঃ

টি ট্রি অয়েল গর্ভবতী মহিলারা এবং অধিক এলার্জ সমস্যা যাদের আছে তারা ব্যবহার না করাই ভালো এবং ছোট বাচ্চাদের নাগাল থেকে দূরে রাখতে হবে।

বাংলাদেশে অবস্থান

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে বাংলাদেশেও এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বাংলাদেশি মানুষের কথা ভেবে ইতি মধ্যে কিছু প্রতিষ্টান টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল বাহিরের দেশ থেকে আমদানি করছেন।

তবে আপনি জানলে খুশি হবেন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রজাতির এই টি ট্রি উদ্ভিত টি বাংলাদেশে প্রথম বিউটি ফর মি নিজস্ব বাগানে উৎপাদন ও নার্চারিং করছেন। সফল ভাবে নিজেদের অস্ট্রেলিয়ান টি ট্রি গাছের বিশাল বাগান থেকেই সংগ্রহ করছেন টি ট্রি গাছের পাতা এবং নিজস্ব মেশিন দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়া জাতের মাধ্যমে উৎপাদন করছেন টি ট্রি অয়েল ও হাইড্রোসল ওয়াটার।

যা কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং উপযুক্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যেমন, BSTI (Bangladesh Standards and Testing Institution) দ্বারা অনুমোদিত।

তাই নিশ্চিন্তে ব্যাবহার করতে পারেন বিউটি ফর মি টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েলও হাইড্রোসল ওয়াটার।

 

অস্ট্রেলিয়ান টি ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল হল আপনার স্বাস্থ্যকর, ও উজ্জ্বল ত্বকের চাবিকাঠি।